স্মিতা সেনগুপ্ত র অনুবাদে ‘জনসমক্ষে পাঠ’: একটি নিবিড় পাঠ-প্রতিক্রিয়া
Sandip Ghosh lives in Salt Lake City, Kolkata. He stays…
অনুবাদক স্মিতা সেনগুপ্ত র কলমে রুশ লেখক ভ্যালেরি পেচেইকিনের অনন্য নাটক ‘জনসমক্ষে পাঠ’-এর একটি নির্বাচিত অংশ আমরা কিছুদিন আগেই প্রকাশ করেছিলাম। এবার আপনাদের জন্য থাকছে সন্দীপ ঘোষের কলমে বইটির একটি বিস্তারিত আলোচনা।
প্রতিটি পাঠকের রুচি, ভালোলাগা, বোঝার ক্ষমতা ভিন্ন। তাই কোনো বিষয় নিয়ে কোনো লেখকের লেখা যে, সকল পাঠককেই আকৃষ্ট করতে পারবে এমন কোনো কথা নেই। আার এও সত্য যে, সকলের কথা ভেবে লেখককে লিখতে হলে তাঁর নিজের উদ্দ্যশ্য আর সিদ্ধ হবে না।
মনে হয়, আলোচ্য বইটির একটি ভালো দিক – বর্তমান প্রজন্মকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ঠাটবাট সম্পন্ন, বিলাস-ব্যাসনে জীবন কাটানোর অভ্যাস থেকে মুক্ত করার ইচ্ছা। তাদের যাতে পাঠাভ্যাস (ই-বুক ব্যতীত), পাঠাগার ব্যবহারের প্রতি মনোযোগি করে তোলা যায়, সেই প্রয়াসই এখানে প্রাধান্য পেয়েছে। মোদ্দা কথা, পাঠাগারের প্রতি আকর্ষণকে উসকে দেওয়ার সাধু উদ্দ্যেশ্য বা উদ্যম বলা যেতে পারে। আমার ব্যক্তিগত অভিমত, এটিকে মঞ্চ নাটক হিসেবে উপস্হাপনা না করে শ্রুতি নাটক বা পাঠ করা যেতেই পারে।
নাটকটির নাম ‘জনসমক্ষে পাঠ’। পাঠের আয়োজন করা যেতে পারে যে কোনও – বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়ল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারে।
আপনার পছন্দের খাবার পাকশালা থেকে সেজেগুজে আপনার টেবিলে হাজির হওয়ার আগে (আপনি একা হলে যাতে নি:সঙ্গতায় না ভোগেন বা সঙ্গী সাথী থাকলেও, নিছক গল্পগাছা না করে) একটু অন্যভাবে সময় কাটাতে পারেন সেই জন্য আজকাল নামীদামী রেস্তোরার ডাইনিং হলকে যদি ব্যবহার করা যায় পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী শহর, নামী মানুষজন, চলচ্চিত্রের পোষ্টার, রেকর্ড, বই, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদির সংগ্রহশালা হিসেবে তাহলে পাঠাগারকেই বা বিনোদনকেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না কেন?
পাঠাগার মানেই জ্ঞানগর্ভ বইপত্রে ডুবে থাকা থেকে যখন (অবশ্যই যাঁরা সেটাই চান, তাঁদের কথা স্বতন্ত্র) মন একটু হালকা হতে চায়, সেই সময় যাতে পাঠকবৃন্দ পেতে পারেন আনন্দদায়ক, মনোরঞ্জক অথচ শিক্ষনীয় কিছু, তেমন একটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা যেতেই পারে যে কোনো পাঠাগারে এই নাটকটিকে নিয়ে।
ভ্যালেরি পেচেইকিনের লেখা “পুবলিচনয়ে চ্তেনিয়ে” – এর বাংলা ভাষান্তর ড: স্মিতা সেনগুপ্তর ‘জনসমক্ষে পাঠ’। ভিন্ন উদ্দেশ্যে আসা দুটি মানুষের (অবশ্যই নর-নারী) মধ্যে নাটকীয়ভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার নাটকটির তৃতীয় চরিত্র পাঠাগার – একথা বলা যেতে পারে। নাটকটি দুটি অঙ্কে বিভক্ত।
প্রথম অঙ্ক পুরোটিই মেয়েটির একক বক্তব্য। দ্বিতীয় অঙ্কে আবির্ভাব ছেলেটির। কারা এরা? মেয়েটি পাঠিকা। ছেলেটি এককথায় বই চোর। অবশ্য বই সে নিয়ে যায় না। বইয়ের পাতা তার যাদুদণ্ড সদৃশ আলো বিচ্ছুরণকারী স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করে চম্পট দেয়।
ওদের কথাবার্তায় জানা যায়, মেয়েটি পাড়ার পাঠাগারে এসেছিল কিছু তথ্যের সন্ধানে, পডা শেষ হয়নি তাই সে, পাঠাগার বন্ধ করে গ্রন্থাগারিকের চলে যাওয়ার আগেই বইয়ের তাকের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে এবং পরে বেরিয়ে এসে পড়ায় মন দেয়। ছেলেটি পরে ঢোকে, বন্ধ পাঠাগারের তালা খুলে, যার চাবির নকল নাকি সে আগেই বানিয়ে রেখেছিল।
এই নাটকের বিষয়বস্তু অন্যান্য নাটকের মতো তরতরিয়ে সহজ সরল পথে এগোয় না। এর বহুমাত্রিক স্তর পেরোতে যথেষ্ট মনোযোগী হতে হয়, কোনো কোনো জায়গা দুচারবার পড়ার পর তবেই তার অর্থ পাঠকের কাছে ধরা দেবে। যেমন, একেকটা শব্দ বা বাক্য নিয়ে প্রসঙ্গান্তরে চলে যাওয়া আছে আবার সেই বলাটকু বোঝাতে যতি চিহ্নগুলোও আক্ষরিক অবস্থায় দেওয়া আছে যা আমরা কখনও কথা বলতে বলতে উল্লেখ করি না, এখানে কমা, এখানে দাঁড়ি…এগুলো লিখিতবস্থায় আছে। দ্রষ্টব্য নাটকের ৩১/৩২ পৃষ্ঠা।
তাহলে ব্যাপারটা যা দাঁড়ালো তা হচ্ছে, বাচিক শিল্পীকে এমনভাবেই নাটকটি পড়তে হবে, যাতে শ্রোতারা তা উপলব্ধি করতে পারেন। ব্যাপারটা কিঞ্চিত কঠিন হলেও আকর্ষণীয় ও মগজাস্ত্রে শান দেওয়ার মতো।
এর বেশী কিছু বলাটা অনুচিত মনে হওয়ায়, শেষের দাড়ি টানার আগে বলি, প্রচ্ছদশিল্পী সিদ্ধার্থ ঘোষ, প্রকাশক ভাষা সংসদ, দেড়শো টাকা মূল্যের বইটি প্রকাশ করে ধন্যবাদার্হ।
বইটি কিনতে ভিজিট করুন https://www.bhashasamsad.com/
What's Your Reaction?
Sandip Ghosh lives in Salt Lake City, Kolkata. He stays clear of politics, sports or regular curricular studies, but loves learning varied issues. His personal romance is theatre. Now in his late sixties, he has worked in Russian Embassy's cultural department and private organisations, but ploughs himself back into acting whenever he can. His latest book in bengali is titled “Jela O Shohortolir Natyachorcha" meaning Theatre in the Districts and Suburbs.
