Now Reading
পারাবার

পারাবার

Avatar photo
Moinaki sitting near the sea remembering her lost love Rip who had died inan accident

প্রেম থাকলে ব্যথা তো থাকবেই। একটা মৃত্যু আর তাকে ঘিরে চলা হাহাকার । এইরকম এক ঘটনা দিয়েই পারাবার সুরু। সুমন অধিকারীর নোতুন নিবেদন।

সমুদ্রের ধারের বিকালটা খুব সুন্দর, অনেকে যদিও সমুদ্রে স্নান করতে বা Sunrise-sunset দেখতে ভালবাসে কিন্তু মৌনিকার ভাললাগে সন্ধে নামার আগে লালচে আকাশটা, দিগন্ত আর নীল সীমাহীন সমুদ্র একসাথে মিশে যায় এই সময়টায়, এইসময় দুচোখ ভরে দেখতে ইচ্ছা করে প্রকৃতিকে, কানের ইয়ারপডে চালাতে ইচ্ছা করে –“আজ নীল রঙ্গে মিশে গেছে লাল , আজ রঙ চিনে নেওার আকাল”।মুগ্ধ দৃষ্টিতে ছেয়ে থাকে মৌনিকা । একদিন-একসময় ছিল যখন ওরা দুজন একসাথে বসে দেখত আর রীপ পাশ থেকে বেষ্টন করে থাকতো ওকে। মৌনিকা বলতো-

-একটা গান শোনাবি রীপ?

রীপ গীটারটা তুলে নিতো, গাইতো সেই প্রিয় গানটা তার-

­­­­­­-“বর্ণে গন্ধে ছন্ধে গীতিতে ……… আমার পরানে প্রেমের বিন্দু, তুমি শুধু তুমি”

মৌনিকা হাত চেপে ধরতো রীপের, রীপের মুখটা নেমে আসতো মৌনিকার পাতলা ঠোঁট জোড়ার কাছে।

-হ্যালো, বসতে পারি?

হঠাৎ চমক ভাঙ্গে মৌনিকার, সে হঠাৎ আজ থেকে চার বছর আগে হারিয়ে গেছিল। ছেলেটা বসে পড়লো তার, একটু বিরক্ত হয়ে তাকালো মৌনিকা। সমুদ্রের হাওয়ায় উস্কো-খুস্কো চুল, অযত্নে লালিত দারি, পরনে একটা বডিহাগিং টি-শার্ট, তার ওপর একটা বুকখোলা শার্ট আর ফেডেড জিন্স। ছেলেটা এক দৃষ্টে সমুদ্রের দিকে চেয়ে আছে।মুখটা পাংশু হয়ে আছে।মৌনিকের একটু অস্বস্তি হল, এ কেমন ছেলে? এ ত বড় সি বিচেযে যেখানে খুশি বসতে পারে তার কাছ থেকে পারমিশন নেয়ার দরকার কি?! আর বসেই যখন পড়লো তার পাশে, এখন ভ্যাবলার মতো সমুদ্রের দিকে চেয়ে আছে।

– যত্তসব ! (আস্তে আস্তে বলল মৌনিকা)

– হু , কিছু বললেন?

ছেলেটা তাকালো তার দিকে।মৌনিকা অপ্রস্ত হয়ে বলে উঠলো-

– না কিছু না।

– আপনি সমুদ্র ভালোবাসেন?

মৌনিকা, এবার একটু বিরক্ত হয়, মুখে বলে-

– হুঁ।

– But, আমার জানেন তো সমুদ্র ঠিক ভালো লাগে না, নির্জন সমুদ্র সৈকত আর ঢেউয়ের শব্দ শুনতেই আমি ফিরে ফিরে আসি।নির্জন সমুদ্রের ঢেউয়ের একটা মেলোডি আছে জানেন তো?

এবার মজা লাগে মৌনিকার বাহ্ক্যারা পোকা আছে তো এই ছেলের মাথায়।সে একটু বাজিয়ে দেখতে চায় ছেলেটা কে।বলে –

– ঢেউয়ের একটা রিদম্ আছে তো জানতাম, কিন্তু মেলোডি?!

– হ্যাঁ আছে, একটু ভালো করে শুনে দেখবেন

– আপনি কি করেন? কথা শুনে তো মনে হচ্ছে মিউজিকের ফিল্ডে আছেন!

ছেলেটা এবার ম্লান হাসলো।বলল –

– করতাম।এখন করিনা।এখন শুধু শুনি।

– কেন করেন না কেন?

ছেলেটা এবার চোখটা সমুদ্রের দিকে রেখে বলে –

– রিদম-লিরিক্স আর মেলোডি আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।

কথাটা হঠাৎ খুব চেনা মনে হয় মৌনিকার, এক সময় রিপোর্ট এমন কথা বলতো ছেলেটা বলে চলে –

– সমুদ্রের জলের রং কি জানেন ? বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রঙের মনে হয়। জল কিন্তু বর্ন হীন।এই যে…এই যে দেখুন এখন কেমন লালচে লালচে লাগছে না জলটা?!

মৌনিকা, সেই দিকে তাকিয়ে দেখে, সত্যিই অস্তগামী সূর্যের লাল আভামে খেলালচে আকাশের প্রতিফলন হয়েছে সমুদ্রের বুকে, মৌনিকার সেই দিনটার কথা মনে পড়ে যায়।যে দিন রীপ তাকে সেই বিশেষ মুহূর্তে বলেছিল যে –

– আমাকে ছেড়ে চলেযাবি না মৌ?! আমার খুব ভয় হয় মনে হয় তোকে ছেড়ে চলে যেতে হবে আমাকে, আমি অস্তা চলে যেতে চাই নারে।

মৌনিকা হেসে ছিল সেদিন, বলে ছিল –

– তুই কি নিজেকে সূর্য ভাবিস?!

– হুম আমি সূর্য আর তুই আকাশ, আমি তোকে আমার তেজে জ্বালাই পোড়াই, তুই আমাকে ধারণ করিস, আদর করিস, ঘুম পাড়াস। কেন এত ভালবাসিস আমাকে ?!

– জানিনা যা।

আরো গভীরে টেনে নিয়ে ছিল মৌনিকাকে, বিছানায় দুটো শরীর মিশে গিয়েছিল গভীর আশ্লেষে।

মৌনিকাকে এত গম্ভীর দেখে ছেলেটা বলে উঠলো –

– কিছু ভাবছেন ?

– হুঁ।

চমক ভাঙ্গে মৌনিকার।একটু অপ্রস্তুত হয়েএ সে বলে ওঠে –

– না না তেমন কিছু না।

– তার মানে গভীর কিছুই ভাব ছিলেন (মিটি-মিটি হেসে)।

– কেন এমন মনে হলো আপনার?! (একটু রাগত স্বরে)

– আসলে, আমরা যখন খুব আপন কিছু চিন্তা করি তখন আমরা অন্য কারোর কাছে ধরা পড়ার ভয় পাই, তাই বললাম।

– বাহ্, আপনি তো দেখছি মিউজিক ছেড়ে ফিলোজফার হয়ে উঠছেন!

– হাঃহাঃ, আসলে ফিলোসফিতেই তো অনার্স পেপার ছিল আমার।

ছেলেটা বলতে বলতে হঠাৎ থেমে গেল হাসি মুখটা হঠাৎ কেমন গম্ভীর হয়ে গেল তার।গম্ভীর না করু ণঠিক বুঝতে পারলনা মৌনিকা। নিস্তব্ধ সমুদ্র সৈকতে আস্তে আস্তে আধার নামছে তখন।

সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন ছাড়া আর কোন শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না এই সুবিশাল গোপালপুর অনসি-বিচ থেকে।

– কি হলো? থেমে গেলেন কেন?

– ছেলেটা তখন ও নিশ্চুপ, নিঃশব্দে একটা সিগারেটবের করলোসে, তার পর ধীরে ধীরে বলল-

– জীবনটাই থেমে গেছে আর…

সিগারেটটা ধরালো ছেলেটা, তার পর আবার চুপ করে গেল। দিনের নিভে আসা শেষ আলোয় মনিকা দেখল, ছেলেটার চোখ যেন চিক-চিক করছে, মাথাটা ও একটু যেন নিচু হয়ে আছে।হঠাৎ খুব মায়া হলো মৌনিকার ।মনে পড়ে গেল যখন রীপ…..

– এই কিরে? কি হয়েছে? কি রে কথা বলবি না? আরেকটু লেট হয়ে গেল, বাসটা যা ঝোলালো না?! আমি তো একদম ঠিক সময়ে বেরিয়েছিলাম। আরে এই।

– একদম আমাকে টাচ্ করবি না, সিন ক্রিয়েট করিস না রীপ, হাত টা ছাড়।

– আচ্ছা বাবা I am sorry কান ধরছি দেখ।প্লিজ আজকের দিনটা আর রাগ করে থাকিস না।

হঠাৎ করেই অত জন লোকের সামনেই হাঁটু মুড়ে বসে পড়েছিল রীপ।হাতে একটা ডেইরিমিল্কের বার আর একটা বই নিয়ে প্রপোজের ভঙ্গিতে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।লজ্জা য়কুঁ কড়ে গেছিল মৌনিকা , বলেছিল –

– এইই কিকরছিস?! সবাই দেখছে প্লিজ ওঠ্।

– যে দেখছে দেখুক, তুই আর রাগ করে থাকিস না, প্লিজ।

– ওঠ , না আর রাগ করে নেই।

– একটু হাঁস না।

– এই আমি কি তোর দম দেয়া পুতুল নাকি? যখন যেটা বলবি, তখন সেটা করব।

– এই না না , মাতেঃ তুমি তুষ্ট হও, এই অধমের থেকে ভেট গ্রহণ কর।

রিপ ওর হাতে চকলেট বার আর বইটা দেয়। Erich Segal এর “Love story” মুহূর্তে মুখ টা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল মনিকা

– উফ্, থ্যাংক ইউ…

– ভালো লেগেছে তোর?

– খুউউব…

Happy Birthday মৌ। খুব ভালো থাকিস।

রিপ জড়িয়ে ধরে ছিল ওকে, রীপের বুকের পুরুষালী ওমমেখে খুব ভালোলাগছিল মৌনিকার।যেন মনে হচ্ছিল মুহূর্তটা এখানেই থেমে যাক।

আজ ও এই মুহুর্তটাই বন্দী হয়ে আছে মৌনিকার মনে। হঠাৎ পাশে তাকিয়ে মৌ বুঝলো, ছেলেটা পাশে বসে নেই, ইতি – উতি তাকিয়ে দেখে। সে দেখল ছেলেটা সমুদ্রের ধারের দিকে এগিয়ে গেছে।এক দৃষ্টে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে। কেমন যেন একটা ভয় করে মৌনিকার।গোপালপুরের শান্ত সমুদ্র সৈকতে প্রায়ই সুইসাইড বা সমুদ্রে ডোবার খবর পাও য়ায়।ছেলেটাকে এমনিতেই অপ্রকৃতিস্থ মনে হচ্ছে তার।মৌনীকা ডাকে ছেলেটাকে –

– শুনছেন?? অন্ধকারে সমুদ্রের ধারে যাচ্ছেন কেনো?এই সি-বিচে কোনো আলো নেই।

ছেলেটার হেলদোল নেই, সে তখনও নিশ্চুপ নিশ্চল হয়ে সমুদ্র দেখছে।এবার মৌনিকা উঠতে যায়।এ কেমন ছেলেরে বাবা?! না জানি কিকরতে এসেছে? মৌনিকা ওঠার তোড় জোড় করতে যেতেই দেখে ছেলেটা এবার হেঁটে আসে তার দিকেই।

– ভয় পেয়েগেছিলেন নাকি?

– আপনি অন্ধকারে কেন সমুদ্রের দিকে যাচ্ছিলেন?

ছেলেটা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে বালিরদিকে তার পর ধীরে ধীরে বলে –

– দেখতে গিয়েছিলাম সমুদ্র তো কিছু নেয়না সবই ফেরত দিয়ে যায়। কিন্তু আমার পলা…..

এরকম ভাবেই রীপ বলেছিল না মৌনিকাকে!! সেই দিনের স্মৃতি ভীড় করে এলো মৌনিকার চোখে।লেকটাউনে একটা শো ছিল রীপের। মৌনিকা দেখেছিল কম বয়সী শ্রোতাদের সে কি উন্মাদনা! দারুণ ফিড ব্যাক পেয়েছিল রীপ ও তার ব্যান্ড মেম্বারসরা সোশে ষেরীপ ওকে নিয়ে নিজের বাইকে বসে বলে ছিল যে –

– চল একটা স্পেশাল জায়গায় যাব আজ। We have to celebrate!

– But, শুধু আমরা দুজন কেন? পারফর্ম ত ব্যান্ড মেম্বার্স রাকরল।

– তুই আমার ইনস্পিরেশন মৌ। তোর জন্য আমি এখানে রে।

খুব গর্ব হয়েছিল মৌয়ের সেদিন, কিন্তু আর স্পেশাল জায়গা য়যাওয়া হয়নি ওদের।কোনা এক্সপ্রেস ওয়ের মুখে উল্টো দিকথেকে আসা এক মধ্য ট্রাক ড্রাইভার লেন চেঞ্জ করে ঢুকে পড়েছিল ওদের লেনে, ছুয়ে গেছিল ওদের বাইক।

হসপিটালে যখন জ্ঞান হয়েছিল মৌনিকার, তখন করা সিডেটিভের জন্য ও চোখ মেলতে পারছিল না।শুনেছিল যে রীপ ভালো আছে।রেস্টনিচ্ছে। ও দিকে তখন সি সি ইউ তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জালড়ছিল রিপ। দু দিন পর পুরো পুরি জ্ঞান ফেরার পর রীপকে দেখে ছিল মৌ, রীপ কিছু বলতে চেয়েছিল ওকে।রীপকে দেখে দুটো পা টলে গেছিল মৌনিকার। এ ভাবে কখনো রীপ কে দেখবে এমন কল্পনা কখনো করেনি ও।কত ডেকেছিল ও রীপকে, আর কখনো সাড়া দেয়নি রীপ। তৃতীয় দিন রাতে রীপ এসেছিল মৌয়ের কাছে, বলেছিল –

– এই দিনটারই ভয় পেতামরে মৌ, তোকে ছেড়ে যেতে খুব ভয় করছে।

মৌ কোলে তুলে নিয়েছিল রীপের মাথা টা, চুলে বিলিকেটে দিতে দিতে বলেছিল –

– কোথায় যাবি তুই?! তোকে আমি কোথাও যেতে দেবো না আমাকে ছেড়ে।

– যেতে হবে মৌ। কিন্তু আমাকে সেখানেই রাখিস, যেখান থেকে আমি তোরকাছেই ফিরে আসতে পারি, নতুন কোনো রূপে, নতুন কোনো আঙ্গিকে।ফিরে আমি এসবই মৌ, শুধু তোর কাছে।

– যাসনা রীপ, আমাকে ছেড়ে যাসনা। আমি কিকরে থাকবো তোকে ছাড়া?…

উঠে পড়ে রীপ। তার পর হাতটা ছাড়িয়ে মিলিয়ে যেতে থাকে একটা নীল আলোর বৃত্তে।

ধরফর করে উঠে বসে মৌ। স্বপ্ন … এ কি স্বপ্ন দেখছিল সে?! হসপিটালের বেড থেকে নামতে যায় সে, কিন্তু পারেনা।

See Also

চার দিন ভেন্টিলেশন সাপোর্টে ছিল রীপ তার পর সব সম্পর্ক, শিকল, বাঁধন মুক্ত করে উড়ে গেছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে।হলুদ পাখি উড়ে গিয়েছিল সমস্ত ধূসরতাতাকে ছাড়িয়ে।

ব্যাগ টা চেপে ধরে বুকের মাঝে মৌনিকা। অনেক ক্ষণ ধরে চেপে রাখা কষ্টটা বুক ফেটে বেরিয়ে আসতে চায় তার। চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় বেরিয়ে আসে কষ্টটা, একটা কাঁধ খোঁজে মৌনিকা, কিন্তু সে কাঁধটা আজ আর নেই।এক অপার্থিব শূন্যতা ঘিরে আছে আজ তাকে।

হঠাৎ জোরালো টর্চ লাইট এর আলো এসে পড়ে মৌনিকার মুখে…

-কি ব্যাপার! আপনি এখানে একা বসেআছেন কেন??

বিহ্বলতাটা পুরো পুরি যায়না মৌনিকার, সেবলে-

– একা……না মানে?!

– Madam, this beach is not safe, এখানে কিছু চোরা বালি আছে, সমুদ্রএ দিকে যে কোন সময় এগিয়ে আসে, বেশ কিছু দুর্ঘটনা ও ঘটেছে এখানে।

বুকটা ছ্যাৎ করে ওঠে মৌ। ওই ছেলেটা কোথায় গেল?! এতক্ষন ওর কথা মনেই ছিলনা মৌয়ের। আতঙ্কিত গলায় সে পুলিশ অফিসার টিকে বলে-

–  অফিসের, এখানে আর ও একজন ছিল মানে….. একটা ছেলে…..

– হুম্! কি বলছেন?? ও য়াচ টাওয়ারের গার্ডরা আজ বিকেল থেকে আপনাকেই দেখেছে এখানে। আর কেউ তো ছিলনা।

– না অফিসার, ছিল….এতক্ষণ আমার পাশেই বসে ছিল…

– কি বলছেন?! Are you Drunk?!

– সেষটা বুঝতেই পারলনা মৌণিকা, সে তখন উঠে পাগলের মতন ছোখ বলাতে লাগলো চার পাশে। বলে উঠলো –

– প্লিজ খুঁজুন অফিসার….কিছুক্ষণ আগে ওই ছেলেটা সমুদ্রের ধারের দিকে গেছিল….. প্লিজ অফিসার বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগে এক বার দেখুন প্লিজ।

দূর থেকে হুইসেলের আওয়াজ ভেসে এলো।মৌনিকা দেখল যে সার্চ লাইট হাতে চার পাঁচ জনের একটা দল এগিয়ে আসছে তাদের দিকে।ওয়াকি-টকিতে অফিসারের কাছে একটা ভয়েস ভেসে আসে –

– বডিটা পাওয়া গেছে স্যার।

– ওকে।

অফিসার এবার ব্যস্ত সমস্ত হয়ে বলে –

– আপনি এবার ফিরে যান। কোন হোটেলে উঠেছেন?! আমরা আপনাকে ড্রপ করে দিতে পারি। আমাদের আবার কাজ বেড়ে গেল।

মনিকা হতবাক হয়ে প্রশ্ন করে –

– কি হয়েছে?

– আরকি?! আবার বডি পাওয়া গেছে।আর পারা যাচ্ছে না।

চার জন নুলিয়া আর তিন চারজন পুলিশ পলিথিন ব্যাগে মোরা কোন বড় জিনিস সমুদ্রের পাড়ে নামিয়ে রাখল।টর্চের আলো ফেলতেই সে পলিথিন ব্যাগটা দৃশ্যমান হলো।ফেডেড জিন্স, শার্ট পরা একটা ২৫-২৬ বছরের ছেলে, সারা শরীরে সাদা বালির একটা আস্তরণ পড়ে, গেছে চুলটা জলে ভেজা, কিন্তু মুখে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি লেগে রয়েছে।

– হুম।তাহলে একেও সমুদ্রেই নিল।সন্দেহ হয়েছিল আমার কাল বিকেলে যখন হোটেল Sand In থেকে ফোন করে বলল যে ছেলেটা সকালে চেক-ইন করে আবার মিসিং…..পান্ডে, বডিটা পোস্টমর্টেম এ…..ম্যাডাম, ম্যাডাম কি হলো ? কি হলো ম্যাডাম?

মৌনিকার শরীরটা অবশ হয়ে যায় হঠাৎ শরীরটা এলিয়ে পড়ে বালির উপর, ব্যাগটা খসে পড়ে হাত থেকে।

– পান্ডে কুইক্, ম্যাডাম কে নিয়ে চলো ওয়াচ টাওয়ারের দিকটায়।

কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফেরে মৌনিকার।অফিসার আর পান্ডে তখন ওরকাছে বসে।অফিসার বলেন –

– একটু জল খান।

কাঁপা কাঁপা হাতে বোতলটা ধরে মৌনিকা, দু ঢোঁক জল খায়।

– ডেড বডিদেখে ভয় পেয়েছিলেন ম্যাডাম? হুঁ Very sad incident, ছেলেটা কলকাতার, মেয়েটা ওড়িশার, দিন পনেরো আগে ঘুরতে এসেছিল এখানে। মেয়েটা এই বিচে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে যায়।অয়ান চৌধুরী ছেলেটা পুরো উন্মাদ হয়ে গেছিলো।পলা মিশ্রর বডিটাও পাওয়া যায়নি। আমরাই ছেলেটার অ্যাড্রেসে কন্টাক্ট করি, ওর বাবা-মাএসে ওকে নিয়ে যান।গতকাল আবার ছেলেটা গোপালপুর আসে, আর একই হোটেলে চেক ইন করে।কালরাতে হোটেল থেকে থানায় ফোন করে রিপোর্ট করে, যে ছেলেটি বিকালে বেরিয়ে আর ঢোকে নি।এর গার্ল ফ্রেন্ড পলা মিশ্রর তলিয়ে যাওয়ায় এমনিতেই ডিস্টার্বড ছিলও আর আজ এও।

মৌনিকার মুখ থেকে কথাসর ছিলনা, ধীরে ধীরে ও জিজ্ঞেস করলো –

– কখন ঘটলো ঘটনাটা?!

– সেটা পোস্ট মর্টেম এর পরেই বলা সম্ভব।তবে আমার দেখে মনে হলো, বেশিক্ষণনা, দু – তিন ঘণ্টা আগেই ঘটেছে ব্যাপারটা।

হঠাৎ মৌনিকার মনে পড়ল যে তার ব্যাগটা নেই।সে পাগলের মতন করে উঠলো-

– ব্যাগ…. আমার ব্যাগটা…

– ব্যাগ?ব্যাগ ছিল আপনার?! তাহলে মনে হয় সমুদ্রের ধাড়েই পড়ে গেছে যখন আপনি…

মৌনিকা সমুদ্রের পারের দিকে দৌড়াতে শুরু করে পিছন থেকে ভারী পদক্ষেপের সাথে ভেসে আসে

– ম্যাডাম দাঁড়ান….. দাঁড়ান ওই দিকটা অন্ধকার, আমরা আসছি….

সমুদ্রের এক দম ধারে এসে মৌনিকা দেখে সমুদ্রের মধ্যে যেন অসংখ্যনিল বিন্দু জল জল করছে, একটু যেন এগিয়ে এসেছে সমুদ্র আর কিছুটা দূরে ভেসে যাচ্ছে তার সাদা রংয়ের ব্যাগটা।মৌনিকা হাঁটু জল নেমে আসে, ব্যাগটা সেসমুদ্রে ভেসে যেতে দিতে পারেনা, এই ৮ মাসে প্রত্যেকটা দিন সে রীপের চিতাভ স্ম সব সময় নিজের কাছে রেখেছে, কাজ ছাড়া হতে দেয়নি এক মুহূর্তের জন্য।হঠাৎ কানে ভেসে আসে –

“সমুদ্রতো কিছু নেয় না…….সবই ফিরিয়ে দেয়”

আর

“আমাকে সেখানেই রাখিস…..যেখান থেকে আমি ফিরে আসতে পারি, নতুন কোন রূপে……নতুন কোন আঙ্গিকে….”

What's Your Reaction?
Excited
1
Happy
1
In Love
0
Not Sure
0
Silly
0
View Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published.


Scroll To Top