Now Reading
ওজন বাড়াতে কি খাবো: একটি হাস্যকর কাণ্ড!

ওজন বাড়াতে কি খাবো: একটি হাস্যকর কাণ্ড!

Avatar photo
ওজন বাড়াতে কি খাবো

ওজন বাড়াতে কি খাবো – এই প্রশ্ন নিয়ে এক কাঠির মতো চেহারার লোক কী কসরতই না করছে! প্রচুর খেয়েও ওজন না বাড়ার এই মজার গল্পটি শুনে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে।

ও দাদা, শুনছেন, ও দাদা, ও বড়দা, শুনুন না!

– আরে, দূর মশাই,ডেকেই যাচ্ছেন, কিন্তু আপনি কোথায় বলুনতো?

– এই তো, এখেনে।

– আবার এখেনে, এখেনেটা কোথায়?

– তাকিয়ে দেখুন আপনার মাথার ওপরে।

– ওমা, তাই তো, গেলেন কি করে?অমন করে ঝুলছেনই বা কেন?

– ওই একটু কসরত করছিলাম আর কি!

– এ্যাঁ! বলেন কি, ওইখানে উঠে?

– নাটকের সেট আপনার কসরতের জায়গা?

– আসলে তখন কেউ ছিল না তো, তাই ভাবলাম একটু….

– এই চেহারায় এত কসরতের ঘটাই বা কেন শুনি?

– দুঃখের কথা আর কি বলি দাদা, এই চেহারার জন্যেই তো!

– তার মানে?

– সবাই খালি দুয়ো দেয়, এ কি কাঠির মত চেহারা, ছুঁলেই তো পট করে ভেঙে যাবি, খাস না? তাদেরকে কি করে যে বোঝাই, আমি একবারে কিলো খানেক মাংস, গোটা পনেরো মাছ, বেড়াল ডিঙোনো ভাত অনায়াসে খেয়ে ফেলতে পারি। তার সঙ্গে খান কুড়ি মিষ্টিও। তবু কিছুতেই গায়ে লাগেনা! এ দুঃখ আমি কোথায় রাখি বলতে পারেন?

– বলেন কি আপনি, এত্ত খেয়েও এই দশা?

– রোজরোজ কি আর খেতে পারি বড়দা, সে রেস্ত তো নেই। তবে কোনো নেমন্তন্ন মিস করিনা,জানেন? বিয়ে, অন্নপ্রাশন, পৈতে, শ্রাদ্ধ, লোকনাথ, কার্তিক, নারাণপুজো, বারেরপুজো, মায় অষ্টপ্রহর কীর্তন, কাঙালি ভোজন, কিছুই ছাড়িনা। সুযোগ পেলেই বসে পড়ি। বাটি বাটি ভাতের ফ্যান খাই, পাশের বাড়ির থেকে চেয়েও খাই, তাও কিচ্ছুটি হয় না? এ যেন ভদ্দরলোকের এক কথা, নট নড়নচড়ন নট কিস্যু।

– সত্যি তো এ ভারি চিন্তার বিষয়!

– তবেই ভেবে দেখুন!

– কিন্তু মোটা হওয়ার সঙ্গে ওখানে ওঠার কি সম্পর্ক?

– সে কি আর সাধে উঠেছি মশাই? কিছুতেই যখন কিছু হচ্ছে না, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু বলল pull ups করতে। অর্থাৎ কোথাও এমন রড দেখলেই ঝুলে পরতে আর শরীরটা কে টেনে ওপর নীচ করতে। তবে নাকি কিঞ্চিৎ কাজ হলেও হতে পারে।

– তা বেশ ; তাহলে gym এ যান।

– না না, কি বলছেন! কি সব ভারি ভারি জিনিস ঘাড়ে তুলে দেবে, তখন? এই রোগা শরীরের ক্ষমতা আছে সে ভার বইবার?

– তাই বলে এমন যেখানে সেখানে ঝুলে পড়বেন? উঠলেন কি করে বলুন তো?

– আমি যখন এলাম তখন কেউ আসেনি। তাই একটা টেবিল টেনে তার ওপর উঠে চড়ে পড়লাম। দু চারবার করার পরে নামব ভাবছি, তাকিয়ে দেখি কোন ব্যাটা টেবিলটা সরিয়ে নিয়েছে। বলুন দেখি কি বেআক্কেলে!

– এবার একটু নামিয়ে দিন না। হাতদুটো ব্যাথায় টনটন করছে। আচ্ছা আপনি কি করেন?

– নাটকে সাউন্ড দি। আর আপনি?

– Set installation এ সাহায্য করি। এবার নামান মশাই, হাতদুটো ছিঁড়ে পরছে।

– আরে আরে, কি হল সোজা হয়ে দাঁড়ান, এমন ঢলে পড়ছেন কেন?

– দাঁড়াতে পারছি না, ভীষণ খিদে পেয়েছে, চোখে মুখে অন্ধকার দেখছি।

– আবার খিদে?

– হ্যাঁ ভীষণ, গোটা চারেক রোল আনিয়ে দেবেন?

– আচ্ছা ফ্যাসাদ তো! আর কি কি করতে হবে শুনি?

– দিন না মশাই, সব কেমন অন্ধকার হয়ে আসছে, খিদে পাচ্ছে।

– আচ্ছা, আমি কি সত্যি মরে যাচ্ছি? মরার সময় এত খিদে পায়?

– এমনভাবে প্রশ্ন করছেন যেন আমি দশবার মরেছি – সব জেনে বসে আছি?

– আহা আপনি দেখছি অন্য পথে গেলেন!

– পথ ফথ জানিনা মশাই! শুনেছি নাকি ফাঁসির আসামি কে মরবার আগে এন্তার খাওয়ায়।

– সে আবার কি, না হয় একটু স্বাস্থ্যবান হতে চেয়েছি।এই খ্যাংরা কাঠি চেহারায় ঘেন্না ধরে গেছে দাদা, তা বলে ফাঁসি? এটা কি দোষের কিছু?

– দোষ নয় ঠিকই কিন্তু নিজেকে সত্যি আমূল বদলে ফেলা যায়? যেমন আছেন তেমন থাকুন না মশাই! একটা কথা বলুন তো, এই যে যেখানে সেখানে যখন তখন ঝুলে পরছেন, একটা accident ও তো হয়ে যেতে পারে। কেন করছেন এসব? এতটাও কচি তো আপনি নন?

See Also
time loop science fiction

– ঝুলতে আর পারলাম কই বড়দা! যতবার চেষ্টা করেছি, চেহারার দোহাই দিয়ে reject করে দিয়েছে। কচি নই বটে, তবে বুড়ো হতেও খানিক দেরি আছে এখনো। সাধ আহ্লাদও তো আছে। সব জলাঞ্জলি দিয়ে দেব?

– তাই বলে এভাবে ঝুলে পড়বেন? যদি আছাড় খেতেন? এই রোগা হাড়ে কি কি যে ভাঙত, তার কোনো ইয়ত্তা আছে?

– তবেই বুঝুন, কতটা desperate হয়ে আমি সটান ঝুলে পড়েছিলাম! আছাড় তো খাওয়া হল না, রোলই না হয় খাওয়ান।

– ভারি মজা তো! আপনাকে টেনে নামাবোও আমি, পয়সা খরচ করে খাওয়াব আর আপনি কি করবেন?

– দেখছেন না ঝুলে ঝুলে কতটা ক্লান্ত! এই ক্লান্ত ক্ষুধার্ত মানুষটা কে খাওয়ালে আপনার ভালোই হবে।

– থাক, ওসব গ্যাস খাওয়ার দিন আর আমার নেই। আমার ভালো ভাবতে হবে না। এসে গেছে আপনার খাবার, খেয়ে আমায় উদ্ধার করুন।

– অর্ধেক ভেঙে দেব, খাবেন?

– হয়েছে, আর অত ভদ্রতায় কাজ নেই, আপনি চারটেই খান।

– একটু চা হলে বেশ হত!

– আবার চা ও? আর ঠিক কি কি চাই আপনার বলুন তো?

– আহা, চটছেন কেন দাদা? চা টা আমি আনাচ্ছি।

– বুঝলেন, জীবনের সব সাধ পুরণ হয় না। যেটুকু আছে সেটুকু নিয়েই খুশি থাকতে হয়।

– তার মানে অপূর্ণ সাধ আপনারও আছে। বলুন না শুনি?

– ছিল হয়তো কখনো, আজ সে সব চুকেবুকে গেছে। চলি!

– একি, চা খাবেন না?

– নাহ, আপনি খান। যাই সাউন্ডটা সেট করি, নয়তো দেরি হয়ে যাবে।

– আমিও যাই এবার।

– ওহ হ্যাঁ, একটা কথা বলে যাই।ওসব ভেক ধরে কি লাভ বলতে পারেন? টেঁকেনা ওসব। তার চেয়ে এই তো বেশ আছেন, এভাবেই থাকুন না! ঝোলাঝুলি আর নাইবা করলেন। চললাম।

 

What's Your Reaction?
Excited
3
Happy
2
In Love
0
Not Sure
0
Silly
0
View Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published.


Scroll To Top