Now Reading
জল্লাদের প্রেমিকা

জল্লাদের প্রেমিকা

Avatar photo
জল্লাদের প্রেমিকা

এক গভীর আত্মসমীক্ষামূলক গদ্য ও কবিতার সংকলন, যেখানে মৃত্যুর মুখোমুখি একজন বিচারাধীন বন্দির মনোজগৎ, শেষ ইচ্ছা ও চেতনাসূত্রে প্রকাশ পেয়েছে অস্তিত্বের অন্তিম গুঞ্জন। জল্লাদের প্রেমিকা, গীতা বনাম হ্যামলেট, ও ফুল ফোঁটার প্রতীকী তাৎপর্যের মাধ্যমে উঠে এসেছে জীবনের শেষ মুহূর্তের মানবিক ও দার্শনিক দ্বন্দ্ব।

দেবলপুত্র গুঞ্জন

বিচারাধীন বন্দি জীবনের শেষ দিনে আজ আমার ফাঁসীর রায় বেরোবার এই দিনে, দীর্ঘ এত বছর আমার সেলে’র কোনায় টবে পোঁতা গাছটায় প্রথম কলি এসেছে। কত যত্ন করেছি, ভালবেসেছি কিন্তু ফুল ফোটাতে পারিনি। আজ আমার মৃত্যুজ্ঞা হয়ে যাওয়ার পর কলি দেখে ঈশ্বর, পরম করুণাময়ের বিচারে মন ভরে গেল। এই ভাবেই উনি ওনার সৃষ্টি বাঁচিয়ে রেখেছেন।

কাল ভোরে আমার ফাঁসী।

রাত ৩’টের সময় জেলর সাহেব একজন পুরোহিত নিয়ে এলেন আমার সেলে। বললেন আপনি চাইলে উনি আপনাকে গীতা পড়ে শোনাবেন। আমি বললাম এসব গীতা-টীতা লাগবে না; এমন কাউকে এনে দিন যিনি ‘হ্যামলেট’ পড়ে শোনাবেন। জেলর সাহেব কিন্তু মানা করলেন না। আমার মনের মধ্যে শুরু হয়ে গেল –

Heaven and earth,
Must I remember? Why, she would hang on him
As if increase of appetite had grown
By what it fed on, and yet, within a month—
Let me not think on’t—Frailty, thy name is woman!—

সম্বিত ফিরে এল জেলর সাহেবের আবার কথায়। জানতে চাইলেন আমার শেষ ইচ্ছা।

বললাম আমার টবে’র এই প্রথম ফুল আমি আমার জল্লাদের প্রেমিকা’কে পাঠাতে চাই।

জেলর সাহেব মানা করলেন না। জিজ্ঞেস করলেন ‘আপনি জল্লাদ’কে চেনেন?’ বললাম না। আবার জিজ্ঞেস করলেন ‘তাহলে কি করে জানেন ওর এক প্রেমিকা আছে?’ বললাম ‘জল্লাদের স্ত্রী জল্লাদের গৃহস্বামী রূপ দেখেন। তিনি ফাঁসী দেওয়ার গল্প শুনতে চাইবেন না কোনদিন। কিন্তু তাতে জল্লাদের পৌরুষ ক্ষান্ত হয় না। তিনি তো চাইবেন তাঁর এই ফাঁসী দেওয়ার গল্প ‘ব্লো বাই ব্লো’ কাউকে বলতে। দ্যাটস পার্ট অফ হিজ জব স্যাটিসফেকশন। সুতরাং ওনার একজন প্রেমিকা থাকতেই হবে যিনি গোগ্রাসে, আগ্রহভরে এই গল্প শুনবেন।

জেলর বললেন নিন, আপনি স্নান করে নতুন পোশাক পরে নিন। আমি বাইরে আছি। আমি দেখব যাতে আপনার ইচ্ছা পূরণ হয়।

কবিতা ১

দেবলপুত্র গুঞ্জন

অজস্র কবিতায় খুঁজে শেষমেশ তোমায় গদ্যে পেলাম । অজস্র লাল গোল টিপ আর আয়ত নয়নে খুঁজে তোমায় পেলাম বেলাশেষের প্রগতভানুতে আর ভুট্টা ক্ষেতের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া টিয়া পাখির দঙ্গলে। কত নাভিমূলে খুঁজে তোমায় পেলাম কত সহস্র ভাঙ্গা ঢেউ এর নীচে শায়িত এই বেলাভূমিতে। কত রোমাঞ্চতে তোমায় খুঁজে অবশেষে তোমায় পেলাম এই হা-ক্লান্ত স্থবিরতায়।

 

তাই আলগোছে পা রেখেছি, পাছে ভিজে বালির ওপর আমার পায়ের শব্দে তুমি জেগে যাও। আলগোছে পা ফেলেছি, পাছে আমার পায়ের শব্দে স্থবির চাঁদ নেমে আসে আজ তোমার বুকে, হৃদয়ের অক্ষত জানালায়।

 

এইসব করেছি, ভেবেছি তুমি ঘুমিয়ে।

 

কবিরা জানেন না কবিতা দিয়ে ঘুম ভাঙ্গানো যায় না। মূর্খ।

 

See Also
ওজন বাড়াতে কি খাবো

কবিতা ২

অনেক ভেবেও এক পংক্তি কবিতা সেই আগের মত হুড়মুড় করে মাথায় এল না;

অনেক ভেবেও নিজেকে আর আগের মত উড়িয়ে দিতে পারলাম না ধবল বকের পাখায়,                                                                          কাশের তুলোয় অথবা সংসারের আরো তুচ্ছতর অন্য কোন কাজে।

ভেসে যেতে পারলাম না কোন হলদেটে জ্যোৎস্নার পদ্যমাখা কোমল অন্ধকারে।

অথচ বিনা প্ররোচনায়, একেবারে ইচ্ছের বিরুদ্ধে, বিনা দ্বন্দ্বে ভেসে গেলাম।

এবার শুধু তোমার কাছে।

 

আগে কিন্তু কখনো এরম হয় নি। আর হয়নি বলেই বুঝিনি।

 

তুমিই মৃত্যু। অনন্ত। অনাদি। অনাস্বাদিত।

At East India Story, we’re not just about what bleeds or leads. We’re about what inspires, surprises, and reminds us all that across mountains, cultures, —there’s more that connects us than divides us.

What's Your Reaction?
Excited
0
Happy
0
In Love
1
Not Sure
0
Silly
0
View Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published.


Scroll To Top