পিছনে র দিকে এগিয়ে যান

Avatar photo
পিছনে র দিকে এগিয়ে যান

আগুপিছু ভাবতে ভাবতে জীবন শেষ। এবার বাসের হেল্পারের মতো চিৎকার করে বলুন ‘খালি গাড়ি, পিছনে র দিকে এগিয়ে যান।’ ওরে ভাই পেছন দিকে এগোবো কি করে? এগোবো তো সামনের দিকে। বলতে পারি পেছন দিকে পিছিয়ে যাও।

কিভাবে যে শুরু করব বুঝতে পারছি না। একে প্রথমবার, তার ওপর আবার টপিক টাও গোলমেলে। যদিও শুরু করব বললেই তো আর হলো না, এ তো আর পদিপিসির পদ্য লেখা নয় যে ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ করে দু পেগ হরলিক্স মেরে লিখে দিলেই হল। প্রশ্নটা হলো গিয়ে, বিবর্তনের বোঝা ঘাড়ে করে আমরা কি আদৌ এগোচ্ছি না পিছোচ্ছি?

আপনি হয়তো এতক্ষণ ড্যাব ড্যাব চোখে ট্যাবট্যাবাচ্ছিলেন, কান থেকে গোঁজাটা খুলে ভাবছেন এ কে রে ভাই? পাগল না আমাদের উনি? হ্যাঁ এটা ঠিক যে, আপনি আজ ঠান্ডা ঘরে বসে গ্রিন টি খেতে খেতে আপেল ফোনের ভিডিও চ্যাটে বিদেশি সুন্দরীর সাথে সুড়সুড়ি আড্ডা দিচ্ছেন, অথচ আজ থেকে পঞ্চাশ কি ষাট বছর আগে আপনার ঠাকুরদা হয়তো ঘুমানোর সময় নিদেন পক্ষে ফ্যানের হাওয়াটাও খেতে পারতেন না। সামান্য এই ঘটনা থেকেই হয়তো এগুলোর পিছনে সমীকরণটা সহজেই বোঝা যায়। কিন্তু তা বললে কি হয় কাকা? ব্যাপারটা কি এতটাই সহজ? হয়তো নয়। বলবেন কোথা থেকে এলো রে ভাই এই গেছো আঁতেল টা? খালি কথার প্যাঁচ কষছে।

তাহলে খোলাখুলিই বলি। পপকর্ন সহযোগে অক্ষয় কুমার পেয় ঠান্ডা পানিয় পেঁদাতে পেঁদাতে তো দিব্যি ত্রিমাত্রিক বড়পর্দায় বাহুবলি গিলছেন। অথবা বোকা বাক্সে গেম অফ থ্রোন দেখছেন পাশ বালিশে হেলান দিয়ে ( অবশ্যই যার যেমন রুচি অনুযায়ী) । কিন্তু একবারও ভেবেছেন কি? ঢাল তরোয়াল হাতে আপনাকে ময়দানে নামিয়ে দিলে কি হালটাই না হতো! শীতে মাঙ্কি টুপি, গরমে ছাতা আর পিছনে হাতা, এই নিয়েই তো কাটিয়ে দিলেন এতগুলো বছর। কিন্তু সেই মানুষগুলো তো সত্যিই যুদ্ধ করতো ঘোড়ায় চড়ে, নাকি? তারা কি শুধুই ইতিহাসের পাতার চরিত্র না কাল্পনিক কিছু? বেশি কিছু না, পারবেন কি টিপু সুলতানের তরোয়াল টা একটু চাগিয়ে তুলতে? অথচ দেখুন, এই তরোয়াল ঘুরিয়েই চোখের পলকে কেমন ড্যাং ড্যাং করে লাশের পর লাশ সাবড়ে দিতেন সেইসব আমলের রাজার রাজাড়ারা।

বিবর্তনের হাত ধরে মানুষের দৈর্ঘ্য প্রস্থের যে কতখানি হ্রাস ঘটেছে, বেশি দূর নয়, কলকাতা জাদুঘরে গৌতম বুদ্ধের পায়ের ছাপ দেখেই তা অনায়াসে আন্দাজ করা যায়। আর শুধুই কি বহর? কমেনি কি শক্তি, সামর্থ্য আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা? আলবাত কমেছে । ও পাড়ার গোবিন্দ দাদু তো এখনও সকাল বিকেল দিব্যি চিকেন মটন সাবড়াচ্ছেন আর পচার দোকানের ঘুগনি, চপ, জিলিপি ও টুকটাক পেটে পাচার করছেন বৌমার কড়া নজর এড়িয়ে। অথচ দেখুন, আপনার চর্বি চর্চিত হাই পাওয়ারের মলভোজী (পড়ুন শপিং মল) ডিজিটাল খুচরো খোকাদের, যারা কিনা, ” প্রেসারে, সুগারে, ইউরিক অ্যাসিডে, যে রোগে স্মরণ করিবে, সে রোগ বডিতে বহিব”, এই স্লোগান নিয়ে, ৫, ৮ বা ১৩ মেগা পুটকির ক্যামেরায় নিজস্বী তুলে ফেবু স্ট্যাটাস সাম্প্রতিকিকরণে ব্যস্ত। আর হবে নাই বা কেন বলুন? জীবনটাই তো শুরু হচ্ছে নকল দিয়ে। পেট থেকে পড়েই তো শুরু হয়ে যাচ্ছে নকল আর ভেজালের সাথে আঁতাত, সে বেবি ফুড হোক বা পাছা মোছানোর সুগন্ধি ক্রিম। তারপর ধরুন, আপনার বাচ্চাকে বাড়ন্ত করে তোলার আর তার মায়ের সুস্থ থাকার ব্যাপারে আপনার থেকেও অনেক বেশি চিন্তিত সেইসব ন্যান মার্কা শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি, যাদের দাবি তাদের এই বেবি ফুড গুলো নাকি মাতৃদুগ্ধের থেকেও উপাদেয়। এমনকি তাদের পোষা বদ্যিকুলের থেকে আজকাল এমন কথাও শোনা যাচ্ছে যে বাচ্চা প্রসবের পর দুদিনের আগে নাকি মাতৃদুগ্ধ তৈরিই হয়না। ও ব্যাটা নিজে যেন জন্মের পর দুদিন ভুখা ছিল।

See Also
The Parent Code

এরপর বাচ্চা আরেকটু বড় হলে তো আর কথাই নেই, ভোগী হো ইয়া ত্যাগী, সব খাও ম্যাগি। তারপর তো পেটে গদি আর পিছনে নদী গজাতে নাচতে নাচতে আসছে কুরকুরে, চিপস, টিন খাদ্য, আরো কত কি। আর শুধুই কি খাওয়া দাওয়া? জীবনধারণের প্রতিটা ক্ষেত্রেই তো দেখা যাচ্ছে উন্নতির (?) হস্তক্ষেপ। এসির হাওয়া গায়ে না লাগলে তো কলির (পড়ুন গলির) কেষ্টদের রাতে ঘুমই আসেনা। যদিও ঘুমানোর আগে কানে গুঁজে ফিসফিসানিও চলে খানিক। এ যেন ডিসকানেক্টিং পিপল এন্ড কানেক্টিং কাপলস। সে যাই হোক – আমার বক্তব্য তো মানব সভ্যতার আগুপিছু নিয়ে, সামাজিকতা রক্ষার কাজটা না হয় সামাজিক জীবরাই করুন – সে দায়ভার আমার মত অসামাজিকের নয়। তা যা বলছিলাম, মোবাইলের রেডিয়েশন থেকে শুরু করে পেলাসটিকের চায়ের কাপ, বেশিদিন প্রকৃতি সইবে তো? প্রকৃতি না সইলেও যদিও ট্রাফিক পুলিশ সইয়ে নেবে, যদি পলিউশনের এর কাগজ গাড়িতে না থাকলেও, পকেটে গান্ধী কাগজ গজগজ করে। ভাববেন না যেন আবার বাপের হোটেলে বসবাসকারী ভদ্র সন্তানের মত অলস সময় কাটাতে গেঞ্জি পরে এনজিও মারাচ্ছি আর নগণ্য জনগণকে দূষণ করে পেঙ্গুইন বা সিল মাছ হত্যার দায়ে দূষছি। উন্নয়নের চাকার তলায় পিষ্ট হয়ে সিল তো দূর, পাড়ার পায়রা আর চড়ুইগুলোরই আজ তিল ধারনের জায়গা কই? এখন কথা হচ্ছে কি, আমরা কি সভ্যতার যাঁতাকলে পৃষ্ঠ হতে হতে এভাবেই এগোতে (?) থাকব, নাকি আবার ভোল পাল্টে জংলি খোকা হয়ে ফিরে যাব প্রকৃতির বুকে? এ বড় কঠিন প্রশ্ন। সঠিক উত্তর জানা থাকলে নিম্নোক্ত ঠিকানায় সত্তর যোগাযোগ করুন।

জ্ঞানপাপী ধেড়েখোকা
৬৯ উলট পুরান স্ট্রীট
ঘাসের দেশ

What's Your Reaction?
Excited
1
Happy
0
In Love
0
Not Sure
0
Silly
0
View Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published.


Scroll To Top